
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদের ১৪তম অধিবেশন শুরু
গাজী মনজুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক আমার সোনার বাংলা।
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদের ১৪তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বি,এম,এ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সারাদেশ থেকে আগত কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। অধিবেশন সঞ্চালনা করছেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সভাপতির ভাষণে আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী আদর্শভিত্তিক যুব নেতৃত্ব গড়ে তোলা সময়ের অত্যাবশ্যক দাবি। তিনি বলেন, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অবিচার ও আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত ও সচেতন যুবসমাজই পারে ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ দেশ ও জাতির কল্যাণে আদর্শিক রাজনীতি ও দাওয়াহভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আগামী দিনে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও গণমুখী করার জন্য সকল দায়িত্বশীলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অধিবেশনের সঞ্চালক মুফতি মানসুর আহমদ সাকী তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের মূল শক্তি হচ্ছে ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব। তিনি বলেন, যুবসমাজকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গড়ে তুলতে হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আদর্শিক প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর কর্মসূচির বিকল্প নেই। তিনি দায়িত্বশীলদের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে সংগঠনের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার নির্দেশনা প্রদান করেন।
অধিবেশনে দেশীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুবসমাজের বর্তমান বাস্তবতা, সংগঠনের সাংগঠনিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ইসলামী আন্দোলনের কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামকে আরও সুসংহত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
এছাড়াও অধিবেশনে দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রচার কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদের এ অধিবেশন থেকে সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এ অধিবেশন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।